সোমবার, ২৪ জুন, ২০১৯

ইসলামিক রাষ্ট্র কায়েমের পদ্ধতি গণতন্ত্র


   ইসলামিক রাষ্ট্র  কায়েমের পদ্ধতি (গণতন্ত্র)
  একটি ব্যতিক্রম গবেষণা মুখী  প্রবন্ধ৷
  লেখক, মোঃ মাসুদার রহমান (মাসুদ)

গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে কিভাবে ইসলামিক রাষ্ট্র কায়েম করা সম্ভব ? অথবা
কোন পদ্ধতিতে গণতান্ত্রিক ভোট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ইসলামিক রাষ্ট্র কায়েম করা সম্ভব?

এই প্রবন্ধটি শুধু সেই সব জ্ঞানী গুণী আলেমদের উদ্দেশে লেখা যারা গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে ইসলামিক রাষ্ট্র কায়েম করতে চায়,

এই প্রবন্ধটি সেই সব জ্ঞানী গুণী আলেমদের প্রয়োজন যারা গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে ইসলামিক রাষ্ট্র কায়েম করতে চায়?

                                   ভূমিকা
إنِ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلا هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ:
آعوذ باللله من السيطن الزجيم            
بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

هُوَ ٱلَّذِىٓ أَرْسَلَ رَسُولَهُۥ بِٱلْهُدَىٰ وَدِينِ ٱلْحَقِّ لِيُظْهِرَهُۥ عَلَى ٱلدِّينِ كُلِّهِۦ وَلَوْ كَرِهَ ٱلْمُشْرِكُونَ

وَقَٰتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ ٱلدِّينُ كُلُّهُۥ لِلَّهِۚ



আলহামদুলিল্লাহ, ভূমিকার শুরতে সেই মহান রব্বুল আলামিনের দরবারে যাবতীর প্রশংসা সমস্ত ছিপ্তসানা সমস্ত গুণ গান, যিনি আমাকে গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে কি ভাবে ইসলামিক রাষ্ট্র কায়েম করা সম্ভব? এই প্রবন্ধটি লেখার মেধা সাহস শক্তি বুদ্ধি ক্ষমতা দান করেছেন, তাই তার দরবারে হাজারো লাখো কোটি শুকরিয়া,
তার ইচ্ছা না থাকিলে, তার অনুগ্রহ না থাকিলে, তার রহমত না থাকিলে, তার ভালোবাসা না থাকিলে,  আমি কিছুতেই তা লেখতে পারতাম না, এরপরেও যদি কিছু লেখা  ভুল হয়ে থাকে তা আমার পক্ষ থেকে, এবং শয়তানের পক্ষ থেকে, আর যে লেখা গুলো ভালো হয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, কারণ আল্লাহ পবিত্র তাই আল্লাহ  মানুষকে ভালো কিছু  চিন্তা করার, ভালো কিছু গবেষণা করার, ভালো কিছু বলার, ভালো কিছু লেখার, ক্ষমতা দান করেন,
আর শয়তান অপবিত্র তাই শয়তান মানুষকে খারাপ কিছু  চিন্তা করার, খারাপ  কিছু গবেষণা করার, খারাপ  কিছু বলার, খারাপ কিছু লেখার, ক্ষমতা দান করেন, তাই সকল ভালো কাজ আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর সকল খারাপ কাজ শয়তানের পক্ষ থেকে, কারণ শয়তানে কাজেই হলো মানুষকে খারাপ পথে পরিচালিতো করা, তাই তার দ্বারাই খারাপ কিছু ঘটে, যায় হউক ভূমিকা আর দীর্ঘ করতে চাইনা এখানে শেষ করে দিলাম,


মূল আলোচনার ৷  

هُوَ ٱلَّذِىٓ أَرْسَلَ رَسُولَهُۥ بِٱلْهُدَىٰ وَدِينِ ٱلْحَقِّ لِيُظْهِرَهُۥ عَلَى ٱلدِّينِ كُلِّهِۦ وَلَوْ كَرِهَ ٱلْمُشْرِكُونَ
তিনি সেই সত্তা যিনি তাঁর রসূলকে পথ-নির্দেশ ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন সব দ্বীনের ওপর এই দ্বীনকে বিজয়ী করার জন্য, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।
সুরা তাওবা আয়াত নং ৩৩

وَقَٰتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ ٱلدِّينُ كُلُّهُۥ لِلَّهِۚ
তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাও যে পর্যন্ত না ফিতনা (কুফর ও শিরক) খতম হয়ে যায়, আর আল্লাহর  দ্বীন পুরোপুরিভাবে আল্লাহর জন্য হয়ে যায়।
 সুরা আনফাল আয়াত নং ৩৯
       
তাই আল্লাহর জমিনে আল্লাহর  দ্বীন  কায়েম করা (তথা  ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা) প্রতেকটি মুসলিমদের জন্য ফরজ, একজন মানুষ মুসলিম  হওয়ার  পর  তার সর্ব প্রথম কাজ হয় ইসলামী জ্ঞান অর্জন  করা, ইসলামি সকল বিধি  বিধান  মেনে নেওয়া, পালন করা, এবং ইসলামী  রাষ্ট্র  প্রতিষ্ঠা করা, (তথা আল্লাহর  জমিনে আল্লাহর  দ্বীন কায়েম করা) এই হলো মুসলিমদের প্রাথমিক প্রথম পর্যায়ের কাজ,
তাই সকল নবী রাসুলগণ তারা অক্লান্ত  পরিশ্রম করে  আল্লাহর জমিনে আল্লাহর  দ্বীন  কায়েম  করেছেন, ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন, অনেক নবী রাসুল গণ তারা মৃত্যু পর্যন্ত দ্বীন কায়েম করার জন্য, ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য, চেষ্টা চালিয়ে গেছেন, তারা এ পৃথিবীর জীবন থেকে চলে যাওয়ার পর, এ দায়িত্ব আলেমদের কাধে আসে, কারন  আলেমরা হলেন নবী গণের ওয়ারিস,
 তাই এ পৃথিবীতে অনেক আলেমরা দ্বীন কায়েম নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে, ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে, যেহেতু এ দায়িত্ব তাদের,
তাই তারা এ দ্বীন কায়েমের জন্য, ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য,  প্রাণ পণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে , তবে কেউ ভোটের মাধ্যমে, কেউ তাবলীগের মাধ্যমে, কেউ শিরক বিদআত উৎখাতের মাধ্যমে, কেউ বক্তৃতার মাধ্যমে, কেউ জেহাদের মাধ্যমে, এভাবে তারা দ্বীন কায়েম করার জন্য, ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য, চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে কেউ এ দ্বীন কায়েম করতে পারতেছেনা, ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারতেছেনা, কিন্তু তারা অবিরাম ভাবে  দ্বীন কায়েমের জন্য, ইসলামিক রাষ্ট্র    প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ পণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ,
 এখন যদি প্রশ্ন করা হয় এত গুলি দ্বীন কায়েমের পদ্ধতির মাঝে, ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পদ্ধতির মাঝে, কেন কোন এক পদ্ধতির মাঝে  দ্বীন কায়েম হচ্ছেনা? কেন কোন এক পদ্ধতির মাঝে ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হচ্ছেনা?
আবার যদি  প্রশ্ন  করা হয়? এত গুলি দ্বীন কায়েমের পদ্ধতির মাঝে, ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পদ্ধতির মাঝে, কোন পদ্ধতি সঠিক? বা  কোন পদ্ধতিতে  দ্বীন কায়েম করা সম্ভব? ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব?
তাহলে আমি  এক বাক্যে উত্তর দেবো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম  সাহাবীদেরকে নিয়ে যে পদ্ধতিতে দ্বীন  কায়েম করে গেছেন, ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে গেছেন, সেই পদ্ধতি  হলো সঠিক, সেই পদ্ধতিতে শুধু দ্বীন কায়েম করা সম্ভব, ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব,
তাহলে এখন তোমরা ভেবে  দেখ রাসুল সাল্লাল্লাহু  আলাইহিস সাল্লাম, কোন পদ্ধতিতে দ্বীন কায়েম করে গেছেন? ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে গেছেন? আর তোমরা আজ কোন পদ্ধতিতে দ্বীন কায়েম করার চিন্তা-ভাবনা করছো? ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার চিন্তা ভাবনা করছো?
ওহে আলেমরা কেন আজ তোমাদের দ্বীন কায়েমের জন্য, ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য অগণিত পদ্ধতি? কেন তোমরা  সব আলেমরা এক হয়ে সেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস  সাল্লাম এর দ্বীন কায়েমের পদ্ধতি আঁকড়ে ধরছোনা? কেন তোমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম যে পদ্ধতিতে দ্বীন কায়েম করে গেছেন, ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে গেছেন সেই পথে যাচ্ছনা? এর কারন কি?
 কেন  তোমরা বিভিন্ন আলেম  বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করছো  দ্বীন কায়েমের জন্য? এভাবে কি দ্বীন কায়েম করা সম্ভব? ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব?
 তাই ওহে সকল আলেমরা এক হও  আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম যে পদ্ধতিতে পদ্ধতিতে দ্বীন কায়েম করে গেছেন, সেই পদ্ধতিতে দ্বীন কায়েম করার চেষ্টা কর, ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তোমাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই সাহায্য করবেন, কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম যে পথে দ্বীন কায়েম  করেছেন  সেই পথে তোমরাও চলতেছো, তাই আল্লাহর ওয়াদা অনুযায়ী আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর ৭০০০ হাজার ফেরেস্তা অথবা  তার বেশি অগণিত  ফেরেশতা  দিয়ে সাহায্য করবেন,
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম কোন পদ্ধতিতে দ্বীন কায়েম করেছেন এর বিস্তারিত আলোচনা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম  কোন পদ্ধতিতে দ্বীন কায়েম করেছেন সেই বইয়ের মাঝে লিখেছি তাই এখানে আর লিখলাম না, এখানে আজ লিখবো রাষ্ট্রীয়  নিয়ম পদ্ধতি অনুসারে  কি ভাবে  দ্বীন কায়েম করা সম্ভব?
এখন তোমরা অনেকেই বলতে পারো আপনি বললেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম যে পদ্ধতিতে দ্বীন কায়েম করেছেন সেই পদ্ধতিতে দ্বীন কায়েম করতে হবে আর তা না হলে দ্বীন কায়েম করা সম্ভব নয়, তাহলে আপনি কেন এখন উল্টো পথে চলছেন,
আসলে ভাই আমি উল্টো পথে চলছিনা, যার কারণে আমি বইটি লিখেছি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম এর দ্বীন  কায়েমের পদ্ধতি,  কিন্তু আজ বাংলাদেশের আলেমেরা  রাসুলের দ্বীন কায়েমের পদ্ধতি অনুসরণ করছেনা তারা রাষ্ট্রীয় পদ্ধতি অনুসরণ করছে তবুও ভুল রাষ্ট্রীয় পদ্ধতি অনুসরণ করছে,   যার কারণে এই বই লেখা, যাতে করে তারা সঠিক রাষ্ট্রীয় পদ্ধতিতে এসে দ্বীন কায়েম করতে পারে,
আর আমি সেই রাষ্ট্রীয় পদ্ধতিতে কিভাবে দ্বীন কায়েম করা যাবে তার কিছু দিক নির্দেশনা দিবো, তাহলে এখন আমাদের দেখার বিষয় আমাদের রাষ্ট্রীয় পদ্ধতি  কি কি? আর আমাদের রাষ্ট্রে কোন রাষ্ট্রীয় পদ্ধতিতে দ্বীন  কায়েম করা সম্ভব?
তার আগে একটি  সংশয় দুরীভুত করি, দ্বীন  কায়েম  দু-প্রকার
1 আল্লাহর রাসূল প্রদত্ত দ্বীন  কায়েম
2 শয়তান তাগুত  প্রদত্ত  দ্বীন  কায়েম
 আল্লাহ রাসুল প্রদত্ত  দ্বীন কায়েম কাকে বলে? যে রাষ্ট্রের  মাঝে আল্লাহর বিধি বিধান সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হয় তাকে আল্লাহ রাসুল প্রদত্ত দ্বীন কায়েম বলে৷
আর শয়তান তাগুত প্রদত্ত  দ্বীন কায়েম  কাকে বলে? যে রাষ্ট্রের মাঝে তাগুতের  বিধি  বিধান সংবিধান  দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হয় তাকে তাগুতের দ্বীন কায়েম  বলে,
বা অন্যভাবে বলা যায় যে রাষ্ট্রের মাঝে আল্লাহ  বিধি  বিধান সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হয়না, অন্য কোন বিধি  বিধান সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হয়, তাকে শয়তান তাগুত প্রদত্ত  দ্বীন  কায়েম বলে,
তাহলে এখন প্রশ্ন আসতে পারে আমাদের রাষ্ট্রে  বর্তমান কোন দ্বীন কায়েম প্রতিষ্টিত আছে?
 এর সহজ উত্তর যেহেতু আমাদের রাষ্ট্রে আল্লাহ প্রদত্ত বিধি বিধান সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা হয়না, শয়তান তাগুত প্রদত্ত বিধি বিধান সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা  হয়, সেক্ষেত্রে আমাদের দেশ বর্তমান শয়তান তাগুত প্রদত্ত দ্বীন কায়েম  প্রতিষ্ঠিত আছে,
এখানে একটি কথা পরিস্কার মনে রেখ, ইবাদত দুই প্রকার,
১ আল্লাহর ইবাদত,
২ শয়তানের ইবাদত,
যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত না করে তাহলে সে নিশ্চিত শয়তানের এবাদত করে, আর যদি কোন ব্যক্তি শয়তানের এবাদত না করে, তাহলে সে নিশ্চিত আল্লাহর এবাদত করে, কারণ প্রত্যেকটি মানুষ সর্বক্ষণ এবাদতের মাঝে নিমজ্জিত আছে, তবে হয় সে আল্লাহর এবাদতে আছে,  নতুবা শয়তানের এবাদতে আছে, এমন কোনো মানুষ নেই এবাদত করেনা, তবে কেউ আল্লাহর এবাদত করে, আর কেউ শয়তানের এবাদত করে, যারা আল্লাহর এবাদত করে তারা নিশ্চিত শয়তানের এবাদত করেনা, আর যারা শয়তানের এবাদত করে তারা নিশ্চিত আল্লাহ ইবাদত করেনা,
এখন যেহেতু আমাদের দেশ আল্লাহর বিধি বিধান  সংবিধান দিয়ে পরিচালনা  হচ্ছেনা, সেহেতু আমাদের দেশ নিশ্চিত শয়তানের তথা তাগুতের বিধি বিধান সংবিধান দিয়ে পরিচালনা হচ্ছে, আর যদি আমাদের দেশ তাগুতের বিধি বিধান  সংবিধান দিয়ে পরিচালনা না হতো, তাহলে নিশ্চিত আমাদের দেশ আল্লাহর বিধি বিধান সংবিধান দিয়ে পরিচালনা হতো,
কারণ প্রত্যেকটি মানুষের জন্য দুইটি রাস্তা, এক আল্লাহর রাস্তা, নতুবা শয়তানের রাস্তা, আল্লাহর এবাদত, নতুবা শয়তানের এবাদত, আল্লাহর বিধান, নতুবা শয়তানের বিধান,
যে আল্লাহর বিধান মানেনা, সে নিশ্চিত শয়তানের বিধান মানে, আর যে শয়তানের বিধান মানেনা, সে নিশ্চিত আল্লাহর বিধান মানে, মধ্যখানে থাকার কারো কোনো অবকাশ নেই, কেউ কখনো বলতে পারবেনা আমি আল্লাহর বিধান মানিনা, এবং শয়তানের বিধান ও মানিনা, আমি আল্লাহর এবাদত করিনা, এবং শয়তানের এবাদত ও করিনা, এমন কথা কেউ বলতে পারবেনা,
এটা নিশ্চিত যদি কেউ আল্লাহর বিধান না মানে, তাহলে সে নিশ্চিত শয়তানের  বিধান মানে, কারণ প্রত্যেকটি মানুষের দুইটি দিক, এক আল্লাহর দিক, দুই শয়তানের দিক, তৃতীয় কোন দিক নেই, মানুষ আল্লাহর বিধানে না চললে  তবে সে শয়তানের বিধানে চলে, আর যে শয়তানের বিধানে না চলে তবে সে আল্লাহর  বিধানে  চলে,
 যেহেতু  আমাদের  দেশ আল্লাহর  বিধানে  চলেনা, সেহেতু  আমাদের  দেশ  শয়তানের বিধানে  চলে, যদিও আমাদের দেশের সরকার মহোদয় গণ মেনে নিতে না চায়, যদিও তারা এ কথার ঘোর বিরোধিতা করে, আর যারা বলে তাদেরকে জেল জরিমানা ফাসি নির্যাতন প্রদান করে, তবুও এ কথাই সত্য,
যেহেতু এখন আমাদের দেশ আল্লাহর বিধি বিধানে চলেনা, সেহেতু  নিশ্চিত আমাদের দেশ  শয়তান তাগুতের বিধি  বিধানে চলে,
এখন প্রশ্ন হচ্ছে শয়তান কে আর তাগুত কে? শয়তান কে তা আমরা সবাই কম বেশি জানি, এ নিয়ে বিস্তারিত লেখার প্রয়োজন নাই,
এক কথায় শয়তান তাকে বলে, যে আল্লাহর আইন মানেনা, আল্লাহর ইবাদত করেনা, যে নিজেই আইন তৈরি করে, যে নিজেই এবাদত পাওয়ার জন্য অন্যকে বশ্যতা করে, যে আল্লাহর বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করে, যে আল্লাহর বিধান থেকে মানুষকে বিরত রাখে, যে নিজে এবাদত পাওয়ার যোগ্য মনে করে, যে নিজে বিধান দেওয়ার যোগ্য মনে করে, তাকেই শয়তান বলে,
এক কথায় সে আল্লাহর প্রতিদ্ধন্ধী আল্লাহর  সমক্ষন হতে চায়, যদিও এটা তার দ্বারায় কোন কিছুতেই সম্ভব  নয়,
এবার আসি তাগুত  কাকে বলে? তাগুত  অর্থ সীমালংঘন কারী, তাগুত সে নিজে আইন-বিধান তৈরি কারী, সে আল্লাহর  বিধান অমান্য  কারী, সে  আল্লাহর  ইবাদত  অমান্য কারী,
তাই আল্লাহ তাআলা হয়রত মুসা আলাইহিস সাল্লামকে বললেন, যাও ফেরাউনের কাছে সে সীমালংঘন করছে, কারন সে আমার বিধান অমান্য করছে, সে আমার এবাদত অমান্য করছে, সে নিজে আইন-বিধান তৈরি করছে, সে  নিজে এবাদত পাওয়ার যোগ্য অধিকারি  মনে করছে,
এখন প্রশ্ন আসতে পারে ফেরাউন কিভাবে সীমালংঘন করলো, এর সহজ উত্তর যখন সে নিজেকে রব স্বীকার করে নিলো, যখন সে নিজেকে ইলাহ স্বীকার করে নিলো, তখনে সে সীমালংঘনকারী হয়ে গেলো, তখনে সে সীমালংঘনকারী তাগুত  হয়ে গেলো,
 যার কারণে আল্লাহতাআলা হযরত  মূসা আলাইহিস  সাল্লামকে পাঠালেন তাঁর কাছে, যাতে করে সে আল্লাহর এবাদতে ফিরে আসে, যাতে করে সে আল্লাহর বিধি বিধানে ফিরে আসে, কিন্তু সে সীমালঙ্ঘনে অটল থাকলো৷
অনুরূপ ভাবে যারা সেই ফেরাউনের মতো হবে তারাও সীমালংঘনকারী তাগুত, এ ক্ষেতে নমরুদ, হামান, কামান, শাদ্দাদ, আবু জাহেল, উতবা, শায়বা, রবীয়া, এরাও সীমালংঘনকারী তাগুত,
সেই সূত্র ধরে বর্তমানে যারা আল্লাহর বিধান বাদ দিয়ে নিজে বিধান তৈরি করে, নিজের তৈরিকৃত বিধান দিয়ে দেশ রাষ্ট্র  পরিচালনা  করছে, তারাও সীমালংঘনকারী তাগুত,
 আবার যেসব লোক আল্লাহর বিধানের কাছে বিচার ফায়সালা না চেয়ে, এমন লোকের কাছে বিচার ফয়সালা  চায়, যারা আল্লাহর বিধান দিয়ে বিচার ফয়সালা করেনা, তারা  নিজের মনগড়া বিধান দিয়ে, বা তাদের পূর্ব পুরুষদের রচিত বিধান দিয়ে, বা তাদের মধ্যে বিজ্ঞ জ্ঞানী ব্যক্তিদের রচিত বিধান দিয়ে, বিচার ফয়সালা করে তারাও সীমালঙ্ঘনকারী  তাগুত,
এক কথাই যারাই আল্লাহর আইনের বিরোধিতা করবে, আল্লাহর আইন মানবেনা, আল্লাহর এবাদত করবেনা, নিজে আইন তৈরি করবে, নিজের তৈরিকৃত আইন দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, এবং সে আইনের আওতায় দেশের জনগণকে রাখবে, তারাই সীমালঙ্ঘনকারী  তাগুত৷
তাগুত আর শয়তানের  কার্যক্রম প্রায় কাছাকাছি, তাই শয়তান মানে তাগুত, আর তাগুত মানে শয়তান, এদের যে কোনো একজনকে মানুষ অনুসরণ করবে সেই পথভ্রষ্ট হবে,
এখন আবার সেই  মুল আলোচনার দিকে ফিড়ে যাই, আলোচনা চলছিল বাংলাদেশের আলেমরা রাসুলের দ্বীন কায়েমের পদ্ধতি অনুসরণ না করে, তারা রাষ্ট্রীয় ভাবে দ্বীন কায়েমের পদ্ধতি অনুসরণ করছে, তবুও ভুল রাষ্ট্রীয় পদ্ধতি অনুসরণ করছে, যার কারণে আমার এই  বই লেখা, যাতে করে তারা রাষ্ট্রীয় ভাবে সঠিক পদ্ধতিতে দ্বীন কায়েম করতে পারে,
 এখন আমাদের দেখার বিষয়  আমাদের রাষ্ট্রে, রাষ্ট্রীয় ভাবে কোন পদ্ধতিতে দ্বীন কায়েম চলছে? আর আমাদের  রাষ্ট্রে  কোন  দ্বীন  কায়েম প্রতিষ্ঠিত  আছে?
আমি  বর্তমানে বাংলাদেশে দেখতে পাই গণতন্ত্র নামক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে দ্বীন কায়েমের  ব্যবস্থা আছে, আর বর্তমানে আমাদের দেশে শয়তান তাগুতের দ্বীন  কায়েম প্রতিষ্ঠিত আছে,
আমি আগেই বলেছি  দ্বীন কায়েম দুই প্রকার
১ আল্লাহর রাসূল প্রদত্ত দ্বীন কায়েম৷
২ শয়তান তাগুত প্রদত্ত দ্বীন কায়েম৷
 আল্লাহর দ্বীন কায়েমের  বার্তা বাহক  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম,
 তেমনি ভাবে শয়তানের দ্বীন কায়েমের বার্তা বাহক তাগুত বেইমান নাফমান,
 আল্লাহ যেমন তার দ্বীন প্রতিষ্ঠার সকল কার্যক্রম রাসুলের হাতে তুলে দিয়েছেন, যে সকল মানুষ তার অনুসরণ করবে তারা  মুসলিম হবে,
 ঠিক তেমনি ভাবে শয়তান তার দ্বীন কায়েমের সকল কার্যক্রম তাগুতের হাতে তুলে দিয়েছেন, যে সকল মানুষ তাদের অনুসরণ করবে তারা মুশরিক হবে,
যেমন ফেরাউন তাগুত, তার অনুসারীরা মুশরিক, তেমনি ভাবে নমরুদ  হামান  কামান শাদ্দাদ আবু জাহেল ওতবা সায়েবা রবীয়া তারা তাগুত, তার অনুসারীরা  মুশরিক,
ঠিক তেমনি ভাবে বর্তমানে যারা আল্লাহর সংবিধান বাদ দিয়ে নিজে সংবিধান রচনা করে, অথবা তাদের পূর্ব পুরুষদের রচিত সংবিধান দিয়ে, অথবা তাদের মধ্যে জ্ঞানী-গুণীদের রচিত সংবিধান দিয়ে, দেশ রাষ্ট্র  পরিচালনা করে তারাও তাগুত, আর তাদের অনুসারীরা মুশরিক,
আবার মূল কথায় দিকে ফিরে আসি, বর্তমানে বাংলাদেশে তাগুতের দ্বীন কায়েম  প্রতিষ্টিত আছে, আর সে দ্বীন কায়েমের পদ্ধতি হচ্ছে গণতান্ত্রিক ভোট  পদ্ধতি,
আর এই গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতি আমাদের কিছু সংখ্যক আলেমরা গ্রহণ করে নিয়েছে, তারা এই গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাঝে আল্লাহর রাসুল প্রদত্ত দ্বীন কায়েম করতে চায়, এটা কিভাবে সম্ভব?
এই গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাঝে শয়তান তাগুত প্রদত্ত  দ্বীন  কায়েম  প্রতিষ্ঠিত  আছে,  আবার এই  গণতান্ত্রিক  ভোট পদ্ধতির মাঝে, আল্লাহ রাসুল প্রদত্ত  দ্বীন কায়েম প্রতিষ্ঠা করতে চায়, এটা কিছুতেই  সম্ভব  হতে পারেনা?
 তাই দেখা যাচ্ছে  বাংলাদেশের এক শ্রেণীর আলেমরা এর পিছে লেগে পড়ে গেছে, তারা এটাকেই  এখন শ্রেষ্ঠ  কাজ মনে করছে, হ্যা এটা সঠিক, দ্বীন কায়েম করাই সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ কাজ,  একজন মানুষের কলেমার সাক্ষ্য স্বীকৃতি ওয়াদা দেওয়ার পর তার যে প্রথম কাজ  হবে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর  দ্বীন কায়েম করা, তবে সেটা হতে হবে আল্লাহ ও তার রাসূলের পদ্ধতিতে, অন্য কোন পদ্ধতিতে নয়,
কিন্তু আজ  বাংলাদেশের আলেমরা এরা গণতন্ত্র নামক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করার চিন্তা  ভাবনা  করছে, এটা কি আজও সম্ভব?  অবশ্যই না, এভাবে তারা কিছুতেই আল্লাহ রাসুল প্রদত্ত দ্বীন কায়েম প্রতিষ্ঠা করতে পারবেনা,
তাহলে তারা কেন  এ গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করার চেষ্টা করছে? এর অনেক কারণ আছে, তবে ইসলামিক কারণ একটিও  নয়, সবগুলো রাষ্ট্রীয় কারন, তারা এই রাষ্ট্রীয় কারণের জন্য, গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতি মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করার স্বপ্ন দেখছে, যদিও এ নিয়মে  দ্বীন কায়েম কিছুতেই সম্ভব নয়,
তবে হ্যা যদি তারা নিয়ম পদ্ধতির পরিবর্তন করে তাহলে সম্ভব, তাই আমার এ প্রবন্ধে সেই নিয়ম পদ্ধতি বলে দেওয়াই  মূল উদ্দেশ্য,  যদি তারা আল্লাহ রাসুল প্রদত্ত  দ্বীন কায়েম করতে চায়, এই গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে, তাহলে তাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই ভোট পদ্ধতির নিয়ম পরিবর্তন করতে হবে, তাহলে যদি সম্ভব হয়,
তাই আমি  দীর্ঘদিন গবেষণা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পেরেছি, যদি বাংলাদেশের আলেমরা গণতান্ত্রিক  ভোট পদ্ধতি মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করতে চায়, তাহলে তাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই ভোট পদ্ধতি নিয়ম পরিবর্তন করতে হবে,
এতে যদি আল্লাহ খুশি হয় তাহলে হয়তো গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করা সম্ভব, আর যদি আল্লাহ খুশি না হয়, তাহলে কিয়ামাত পর্যন্ত গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করা সম্ভব নয়, তাই চলুন সেই আলোচনার দিকে,
আসলে পৃথিবীর শুরু থেকে হক বাতিলের দ্বন্দ্ব, যা ছিল আর তা কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে, বাতিল পন্থীরা তাদের দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাবে, তেমনি হক পন্থীরা তাদের দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাবে, এতে কখনো বাতিল পন্থীরা   তাদের দ্বীন প্রতিষ্ঠা করবে, এতে কখনো হক পন্থীরা তাদের দ্বীন প্রতিষ্ঠা করবে,
এটাই নিয়ম যা পৃথিবীর শুরু থেকে চলে আসতেছে, আর এ নিয়ম কেয়ামত পর্যন্ত চলবে, এতে কখনো বাতিল পন্থীরা পরাজিত লাঞ্ছিত হবে, এতে কখনো  হকপন্থীরা পরাজিত লাঞ্ছিত হবে,
তবে হকপন্থীরা তখনেই পরাজিত  হবে, যখন  হকপন্থীদের ঈমানের শক্তি কমে যাবে, পাপাচার তাদের দ্বারায় বৃদ্ধি পাবে, ন্যায় অন্যায় ভুলে যাবে, অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ না করে মাথা নত করে চলে আসবে, তখনেই তারা বাতিলের  কাছে পরাজিত লাঞ্ছিত হবে,
এক কথায়  যখন হকপন্থীদের ঈমানের শক্তি কমে যাবে, ঈমানের দিক দিয়ে দুর্বল হবে, তখনে বাতিলপন্থিদের শয়তানী শক্তি বেড়ে যায়, আর তখনেই  হকপন্থীরা বাতিলপন্থীদের কাছে পরাজিত লাঞ্ছিত  হবে,
এখন একটি প্রশ্ন আসতে পারে কেন হক বাতিলের দ্বন্দ্ব, হক বাতিলের দ্বন্দ্ব হওয়ার  অনেক গুলি কারণ আছে, যার কারণে হক বাতিলের দ্বন্দ্ব, এখানে সব গুলো কারণ  উল্লেখ করার সময় নেই,  তবে মুল কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হলো৷
১ যখন হকপন্থীরা আল্লাহর দ্বীনের প্রতি পূর্ণ নির্ভর করে, আল্লাহর দ্বীনের কোন কিছু রদ বদ করতে দেয়না, তারা আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বত্র সংগ্রাম  চালিয়ে যায়, তখনে বাতিলপন্থীরা তাদেরকে  সে পথে চলতে দেয়না, সে পথে বাধা দেয়, সে পথ থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করে, তাই হক  বাতিলের দ্বন্দ্বের এ একটি অন্যতম  কারণ,
২ তেমনি ভাবে বাতিলপন্থীরা শয়তানের বিধানের প্রতি নির্ভর করে, তারা শয়তানের বিধান প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বময়ী চেষ্টা করে, সর্বময়ী ফিতনা-ফাসাদ অরাজকতা সৃষ্টি করে, যা হকপন্থীদের মেনে নেওয়ার মতো না, তাই হক বাতিলের দ্বন্দ্বের এ একটি অন্যতম কারণ,
৩ তেমনি ভাবে যখন হকপন্থীরা হকের পথ থেকে সরে যায়, তখন বাতিলপন্থীরা অন্যায় যুলম নির্যাতনের পথে শক্তিশালী হয়ে যায়, তখন হকপন্থীরা বাতিলের কাছে লাঞ্ছিত নির্যাতিত হতে থাকে, তাই হক বাতিলের দ্বন্দ্বের এ একটি অন্যতম কারণ
৪ আবার যদি হকপন্থীরা হকের পথে চলে, তাহলে তাদের পৃথিবীতে জয়, নতুবা পরকালে জয়, তাই বাতিলপন্থীরা তাদেরকে হকের পথ থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করবে, তাই হক বাতিলের  দ্বন্দ্বের এ একটি অন্যতম  কারণ,

এভাবে আরো অনেক কারণ আছে যা  হক বাতিলের দ্বন্ধে লিপ্ত হওয়ার অন্যতম,
তাই হক বাতিলের দ্বন্দ্ব কেয়ামত পর্যন্ত চলবে, বাতিলরা তাদের দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য, তাদের শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার জন্য, তারা সর্বময়ী চেষ্টা করবে,
 তাই তারা তাদের দ্বীন প্রতিষ্ঠার  জন্য, তারা যুগে যুগে অনেক  তন্ত্র মন্ত্র আবিষ্কার করেছে, যেমন সমাজতন্ত্র, রাজতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র, জাতীয়তাবাদীতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীতন্ত্র, শেষে  তারা আবিস্কার  করলো গণতন্ত্র, জানিনা এর পরে তারা আর কি তন্ত্র মন্ত্র আবিষ্কার করবে?
 তবে তারা যত তন্ত্র মন্ত্র আবিষ্কার করেছে, তার সব কিছুই এক এক করে বিলীন  হয়ে গেছে, হয়তো তার  কিছু নমুনা আছে,  কিন্তু তারা শেষে যে গণতন্ত্র আবিষ্কার করলো এর মাঝে তারা ভালো কিছু অর্জন করেছে,  এবং তারা তাদের দ্বীন কায়েমের পথে প্রায় ৯৫%  সাফল্যের কাছাকাছি,
তাই আজ তারা সারা বিশ্বে শিরক কুফুর বিদআতে ভরে দিয়েছে, খুন গুম  জুলুম  যাতনা হত্যায় ভরে দিয়েছে, জেনা ব্যাভিচার বেহাপনা অর্ধনগ্নতায় ভরে দিয়েছে, শয়তানের ইবাদতে  মানুষকে  ভরে দিয়েছে, শয়তানের  আনুগত্যে মানুষকে  ভরে  দিয়েছে,
এক কথায় তাগুতরা তারা তাদের প্রভু শয়তানের  দ্বীন  কায়েম  শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা ৯৫% করে ফেলেছে,
তাই আজ পুরষে পুরষে জেনা ব্যাভিচার  সমকামিতা বিবাহ হচ্ছে, মেয়ে মেয়েতে জেনা ব্যাভিচার  সমকামিতা  বিবাহ হচ্ছে,   পশু জন্তু জানোয়ারের সাথে জেনা ব্যাভিচার বিবাহ  হচ্ছে, বাবা তার মেয়েকে ধর্ষণ  করতেছে, শিক্ষক তার ছাত্রীকে ধর্ষণ করতেছে, ভাই তার বোনকে ধর্ষণ করতেছে,
মেয়েরা অবাধ  নগ্ন অর্ধনগ্ন অবস্থায়  জমিনে চলাফেরা  করতেছে,  যেনা-ব্যভিচার  প্রকাশ্যে হচ্ছে, জেনা ব্যাভিচারের  জন্য লাইসেন্স করে দিচ্ছে, মদ প্রকাশ্যে পান করা হচ্ছে,  মদের লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে, সুদ রাষ্ট্র  ভিত্তিক  উত্তোলন  করা হচ্ছে, সুদের টাকা বৈধ ঘোষণা  দেওয়া হচ্ছে, ঘুষ দুর্নীতি কালোবাজারি কালো ব্যবসায়ী রাষ্ট্রীয় ভাবে  পরিচালনা করা  হচ্ছে,
তাই দেখা যাচ্ছে  তাগুতরা তাদের প্রভু  শয়তানের দ্বীন কায়েম শরীয়াহ ৯৫% প্রতিষ্ঠা করে  ফেলেছে, এই গণতন্ত্র  আবিষ্কার  করার মাধ্যমে,
তাই আমাদেরকে এই তাগুতের আবিস্কৃত গণতন্ত্র থেকে বাহির হয়ে আসতে হবে, এবং বিকল্প পদ্ধতিতে দ্বীন কায়েমের  পথ খুজতে হবে,
তাই এই বইয়ের মাঝে বিকল্প ধারা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, তার আগে তোমাদেরকে কয়েকটি প্রশ্ন করতে চাই?
ওহে ইসলামিক দলেরা তোমরা যারা গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির  মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করতে চাও তোমাদের কাছে আমার কয়েকটি প্রশ্ন?
১ তোমরা যদি গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাঝে জয় লাভ কর, তারপরেও কি তোমরা দ্বীন কায়েম করতে পারবে? তোমরা কি কোরআন দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারবে?
 ২ তোমরা কি ভেবে নিয়েছো গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির  মাধ্যমে তোমরা জয় লাভ করবে?
৩ তোমরা কি ভেবে নিয়েছো জনগণ তোমাদেরকে ভোট প্রদান  করবে ?
ওহে ইসলামিক দলের আলেমরা তোমরা যারা গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে জয়ী হবার চিন্তা ভাবনা করছো, তোমরা যারা গণতান্ত্রিক ভোটে জয়ী হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পেয়ে সংসদে গিয়ে দ্বীন কায়েম করার চিন্তা ভাবনা করছো তোমাদেরকে বলি,
তোমরা কি কেউ দেশীয় সংবিধান  পড়ে দেখেছো? তোমরা তো সেই সংবিধানের বাহিরে  কিছুই করতে পারবেনা, অথচ সে সংবিধানে যে আইন আছে তা ৮০% কোরআনের বিপরীত,
বিশ্বাস না হলে খুলে দেখো তোমাদের  রাষ্ট্রীয়  সংবিধান সেখানে কি লেখা আছে? তোমরা কি পারবে সেই সংবিধানের আইন পরিবর্তন করতে? সেই সংবিধানে মদের ব্যবসা বৈধ করে দেওয়া হয়েছে,  সেই সংবিধানে জেনা ব্যাভিচারের সামান্য সাজা করা হয়েছে, সেই সংবিধানে পতিতাদের লাইসেন্সের মাধ্যমে বৈধ করে দেয়া হয়েছে, সেই সংবিধানে সুদ রাষ্ট্রীয় ভিত্তিক  বৈধ করে দেয়া হয়েছে, তোমরা কি পারবে সে আইন পরিবর্তন করতে? না কিছুতেই পারবেনা,
কারণ তোমরা যারা গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে জয়ী হয়েছো, তোমরা এই সংবিধানের  নীতিমালা বিধি বিধান মেনে জয়ী হয়েছো, এই সংবিধানের আওতায় জয়ী হয়েছো, তাই তোমরা  সেই সংবিধানের  আইন  কিছুতেই  পরিবর্তন করতে  পারবেনা,
  আমি  আরও একটি তোমাদেরকে তথ্য ভিত্তিক যুক্তি দেখাইতেছি, এ দেশে যখন দেলওয়ার হোসেন সাইদী জনগনের ভোটে এমপি নির্বাচিত হলো, তখন সে  সংসদে গিয়ে মদকে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে হারাম করার  কথা বলেছিল, কিন্তু তার কথা কোন কার্যকর হয় নাই, অথচ উল্টো মদকে  লাইসেন্স এর মাধ্যমে হালাল করে দেওয়া হয়েছে,
আরেকটি ঘটনা তোমাদেরকে মনে করে দেই, সেই মিশরের মুশরির ঘটনা  যে গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে জয়ী হয়ে সে ইসলাম দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে  চেয়েছিলো,  কিন্তু সে পারে নাই, তাকে গণ বিক্ষোভের চাপের  মাধ্যমে তাকে রাষ্ট্র ছাড়তে  বাধ্য হতে হয়েছে, তাই তোমরা কিছুতেই গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে জয়ী হয়েও, কোরআন  দিয়ে  রাষ্ট্র  পরিচালনা করতে  পারবেনা,
 আসলে তোমরা যারা  ইসলামিক দলগুলো গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করতে চাও, তা তোমরা কেয়ামত পর্যন্ত পারবেনা, এ আমি চ্যালেঞ্জ করে বললাম, তারপরেও  যদি তোমরা একান্ত  জনগণের ভোটে জয়ী হও, তবুও তোমরা কোরআন দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারবেনা,
আর তোমরা কিছুতেই  জনগণের ভোটে জয়ী হতে পারবেনা, কারণ এই বাংলাতে তোমাদেরকে ৯৫%  জনগণ ভোট দেবেনা, আর গণতন্ত্রের  বিধান  হলো যে  একটি ভোট বেশি পাবে তাকে নির্বাচিত করা,
 তাহলে সেই নিয়ম অনুযায়ী  তোমাদের কে একটি হলেও ভোট বেশি পেতে হবে, যেমন মনে করো আওয়ামীলীগ ভোট পেলো ১০০% এর মধ্যে ৭০% বিএনপি পেলো ১০০% এর মধ্যে ৬০%  কিন্তু তোমাদের পেতে হবে ১০০% এর মধ্যে ৭১% তাহলে তোমরা ভোটে জয়লাভ করতে পারবে,
  কিন্তু এমন ভোট তোমরা কিছুতেই পারবেনা, তবে পেতে পারো যদি দেশের সকল জনগন ভালো হয়ে যায়, সবাই যদি আল্লাহওলা হয়ে যায়, তাহলে পেতে পারো,
তারপরেও কি তোমরা আল্লাহর বিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারবে? না কিছুতেই পারবেনা, কারণ তোমরা যখন ভোটে জয়ী হয়ে সংসদে যাবে; তখন তোমাদের সবাইকে শপথ করাবে সেই দেশীয় সংবিধানের  উপর হাত রেখে, আর তখন তোমাদেরকে সেই দেশীয় সংবিধানের ওপর হাত রেখে শপথ করতে বাধ্য হতে হবে, কারণ তোমরা এই সংবিধানের নীতি মালায় নির্বাচিত  হয়েছো,
তাই তোমাদেরকে সেই সংবিধানের নিয়মাবলী মেনে নিতে হবে, সেই সংবিধানের সকল নীতি মেনে নিতে হবে, সেই সংবিধানের সকল আইন মেনে নিতে হবে, সেই সংবিধানের সকল বিষয় মেনে নিতে হবে, এবং তা দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে, তাই তোমরা গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে জয়ী হয়েও আল্লাহর বিধি বিধান দিয়ে রাষ্ট্র  পরিচালনা করতে পারবেনা,
 তাই আসুন সেই গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির  সঠিক আলোচনা করি, যে গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে জয়ী হলে আল-কোরআন  দিয়ে, রাষ্ট্র পরিচালনা করা যাবে, আর দেশের জনগণ ও তোমাদের প্রতি বিক্ষোভ  করবেনা, কারণ তারা বুঝে শুনে তোমাদেরকে  ভোট প্রদান  করেছে, তাই এখন সেই আলোচনার দিকে চলে যাই৷
মূল আলোচনার বিষয় হলো ইহুদী খ্রিস্টানদের  জাতিসংঘ,
আসলে যত নাটের গুরু এই ইহুদী খ্রিস্টানদের  জাতিসংঘ, আর তারা এমন ভাবে সবাইকে নিয়ে গঠিত করেছে, সেখানে সবাইকে জবাব দিহি করতে হয়, আর এই জাতিসংঘ সকল মুসলিম রাষ্ট্রের সরকারগুলোকে নিয়ে, এবং অন্য সকল রাষ্ট্রের সরকারগুলোকে নিয়ে, এক কথায় পৃথিবীতে যত রাষ্ট্রীয় সরকার আছে তাদের সবাইকে নিয়ে গঠিত করেছে এই জাতিসংঘ, এই জাতিসংঘ যত নাটের গুর,
আসলে মূল বিষয় যা তা হলো, আগে তোমাদেরকে এই ইহুদী খ্রিস্টানদের  জাতিসংঘ থেকে বাহির হয়ে আসতে হবে, কারন এই জাতিসংঘ মুসলিম রাষ্ট্র গুলোর মাঝে  ইসলামী শাষণ  ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে, এই জাতিসংঘ  দ্বীন কায়েমের বিপরীত ঢাল স্বরূপ হয়ে কাজ করতেছে, এই জাতিসংঘের কারণে মুসলিম রাষ্ট্র গুলোতে ফিতনা ফ্যাসাদ বৃদ্ধি  হচ্ছে,
তাই তোমাদের প্রধান কাজ হল এই ইহুদী খৃষ্টানদের জাতিসংঘ থেকে বাহির হয়ে আসতে হবে, এবং একটি মুসলিম জাতিসংঘ গঠন করতে হবে, কিন্তু  মুসলিম সরকাররা তা করবেনা, তারা কিছুতেই ইহুদী খ্রিস্টানদের জাতিসংঘ থেকে বাহির হয়ে আসবেনা, কারণ তারা যে এক চেটিয়া অর্থের পাহাড় গড়েছে এই ইহুদী খ্রিস্টানদের জাতিসংঘের কারণে,
তবে যদি বিশ্বের মধ্যে কোন মুসলিম শাসক নিজের ভুল বুঝতে পেরে জাতিসংঘ থেকে বাহির হয়ে আসে, এবং নিজে একটা মুসলিম জাতিসংঘ  গঠন  করে, এবং  সেই মুসলিম জাতিসংঘে মুসলিম রাষ্ট্র গুলোকে  একত্রিত করে, তাতেই  ইসলামের বিজয় ৭০% হয়ে যাবে (ইনশাআল্লাহ)
তাই আমি মুসলিম শক্তিধর ইসলামের প্রাণ কেন্দ্র মুসলিমদের  প্রাণ কেন্দ্র  সৌদি সরকারকে আহবান করছি সে যেন মুসলিম জাতিসংঘ নামে একটি জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করে, আর যদি  সৌদি সরকার তা না করে, তাহলে বিশ্বের মাঝে একজন শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্র সরকারকে আহবান করছি,
 আর সৌদি  সরকার  তা করবেনা কারণ সে নিজেই রাজতন্ত্রের সরকার যা কোরআনের  আইনের পরিপন্থী, যদিও তা গণতন্ত্রের চেয়ে একটু ভালো কারন  যদি রাজতন্ত্রের সরকার  নীতি বান হয় আল্লাহ ভীরু হয়, তাহলে সে ইচ্ছা করলে আল্লাহর বিধি বিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে, কিন্তু গণতন্ত্রের সরকারের এমন ক্ষমতা নেই যে যথই আল্লাহ ভীরু  ন্যায় পরায়ণ দ্বীনদার ঈমানদার পরহেজগার ব্যক্তি  হউক  না কেন,  সে  নির্বাচিত হয়েছে গণতান্ত্রিক ভোটের মাধ্যমে, তাই জনগণ যে আইন মানবেনা, যে আইন জাতিসংঘ অনুমোদন দেবেনা, সে আইন দিয়ে সে রাষ্ট্র পরিচালনা  করতে পারবেনা, সে যথই মোমিন মুত্তাকী মুসলিম ব্যক্তি হোক না কেন, তাই এক্ষেত্রে গণতন্ত্রের সরকারের চেয়ে রাজতন্ত্রের সরকার একটু হলেও ভালো,
 তাই আমি সৌদি  সরকারকে আহবান করছি মুসলিম জাতিসংঘ নামে একটি জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করার, আর যদি সৌদি  সরকার  এ দায়িত্ব  হাতে  না নেয়,  তাহলে মুসলিম  রাষ্ট্র গুলোর  মধ্য থেকে একজন শক্তিশালী  মুসলিম  রাষ্ট্র  সরকারকে এ দায়িত্ব হাতে  নেওয়ার জন্য আহব্বান ও অনুরোধ  করছি,
আর যদি কোন মুসলিম সরকার একক ভাবে  এ দায়িত্ব হাতে না নেয়, তাহলে যৌথ ভাবে সকল মুসলিম সরকারকে অনুনয় আহব্বান করছি৷
আবার  মূল  আলোচনার দিকে ফিরে যাই, আলোচনা চলছিল গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে  দ্বীন কায়েম নিয়ে, আর এই আলোচনা শুধু তাদের জন্য যারা গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করার স্বপ্ন দেখে,
আমি ইতিপূর্বে লেখেছি গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির  মাধ্যমে তোমরা কিছুতেই জয়ী হতে পারবেনা, তবে আমি একটি গণতান্ত্রিক ভোট  পদ্ধতির সঠিক নিয়মের কথা বলেছিলাম, যার মাধ্যমে তোমরা গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে জয়ী হতে পারবে, আল্লাহর বিধি বিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারবে, সে নিয়মটি এখানে তুলত ধরা হলো,
 তোমরা যারা গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে জয়ী হয়ে দ্বীন কায়েম করতে চাও শুধু তোমাদেরকে বলছি,
আর যারা জিহাদের মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করতে চায় তাদের জন্য এ প্রবন্ধ নয়,
তারা তাদের মত সংগ্রাম চালিয়ে যাউক, কারণ প্রকৃত  সঠিক নিয়ম পদ্ধতি সেটাই, আল্লাহ ও রাসুলের পদ্ধতি সেটাই, তাই তারা তাদের মতো যুদ্ধ চালিয়ে যাউক  দ্বীন কায়েমের জন্য,
হয়তো এখানে অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, আপনি তো মুসলিম জাতিকে দুই দলে সৃষ্টি করলেন? আপনিতো  মুসলিম জাতিকে দুই দলে লিপ্ত করলেন?
আসলে ভাই আমি  মুসলিম জাতিকে দুই দলে সৃষ্টি  করি নাই, মুসলিম জাতি  নিজেরাই দ্বীন কায়েমের জন্য দুই পদ্ধতি গ্রহন করে নিয়েছে, তারা নিজেরাই  দুই দলে বিভক্ত হয়েছে,
কোন এক দলের আলেম বলতেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস  সাল্লাম দ্বীন কায়েম করেছেন গণ সমর্থন ও গণতান্ত্রিক ভোটের মাধ্যমে, তাই তারা দ্বীন কায়েমের জন্য  গণ সমর্থন ও গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতি গ্রহন করেছেন,
আর এক দলের আলেমরা বলতেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সাল্লাম দ্বীন কায়েম করেছেন যুদ্ধ জিহাদের মাধ্যমে, তাই সেই দলের আলেমরা   দ্বীন কায়েমের  জন্য যুদ্ধ জিহাদকে  বেচে নিয়েছেন,
তাই আমি কোন দিনও এই দুই দলের আলেমকে একত্রে করতে পারবনা, তারা তাদের মতো অটল অবিচল থাকবে, তারা তাদের মতকে বেশি প্রাধান্য দিবে, তারা তাদের মতকে রাসুলের পথ হিসাবে মেনে নিবে, আর তারা এভাবে দ্বীন কায়েমের জন্য  চেষ্টা চালিয়ে যাবে,
তাই আমার এ লেখার মূল বিষয় হলো তাদের মতের  মধ্যে, তাদের বিশ্বাসের  মধ্যে, তাদের চিন্তা চেতনার মধ্যে, তাদের  আকিদ্বার মধ্যে, তাদের পদ্ধতির মধ্যে, যে ভুল গুলো আছে তা এখানে তুলে ধরা, এবং তাদেরকে সংশোধনের মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করার জন্য অনুনয় আহব্বান করা,
আর এ ভুল দুই দলের মাঝেই আছে, যারা যুদ্ধ  জিহাদের মাধ্যমে  দ্বীন কায়েম করতে চায় তাদের মধ্যেও আছে,  আর যারা গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করতে চায় তাদের  মধ্যেও আছে,
তাই আমি এখানে  তাদের ভুল গুলো তুলে ধরবো, এবং কোন পদ্ধতিতে চললে তারা গণতান্ত্রিক ভোট  পদ্ধতির মাধ্যমে দ্বীন কায়েম  করতে পারবে সেই বিষয়ে এখানে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।
প্রথমে আলোচনা করবো যারা গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে  দ্বীন কায়েম করতে চায় তাদের নিয়ে,
হয়তো ইতিপূর্বের আলোচনা দেখে বুঝতে পেরেছেন গণতান্ত্রিক  ভোট পদ্ধতির  মাধ্যমে জয়ী হয়েও আল্লাহর বিধি বিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়, তাহলে এখন করনীয় কি?
এখানে হতাশ হবার কোন কারন নেই, কারণ এই পৃথিবীতে কেউ যদি মনে করে আমি এখন লেখাপড়া করবনা, আমি বড় হয়ে একে বারে মাস্টার ডিগ্রী কমপ্লিট করবো, সে কি তা করতে  পারবে? না কখনোই পারবেনা, কারণ তাকে আগে অ, আ, ক,খ, পড়তে হবে, তাই এখানে হতাশ হবার কোন কারন নেই সূত্র  মতো চললে ঠিকেই  দ্বীন কায়েম করতে  পারবে, এই গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির  মাধ্যমে, সেই সূত্রের  প্রথমে তোমাদেরকে যা করতে হবে,
তোমরা  যারা গণতান্ত্রিক  ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে দ্বীন কায়েম করতে চাও, সর্ব প্রথম তোমাদের সবাইকে একত্রিত হতে হবে, এখন একত্রিত হয়ে  কি তোমরা গণতান্ত্রিক ভোটের মাধ্যমে জয়ী হতে পারবে? না কিছুতেই  পারবেনা, আর যদি একান্ত তোমরা গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির  মাধ্যমে  জয়ী হও তার পরেও তোমরা  কোরআন দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারবেনা, তাহলে এখানে একত্রিত হওয়ার উদ্দেশ্য কি?
 এখানে একত্রিত হওয়ার উদ্দেশ্য হলো তোমরা  সকল ইসলামিক দল একটি  আলাদা মুসলিম  জাতিসংঘ গঠন করবে, যদিও এ কাজটি অনেক কষ্টের, অনেক ত্যাগ  তিতিক্ষা ধয্যের, অনেক অর্থ সময় শ্রমের, এমন কি রক্ত ক্ষরণের,
কারণ তোমরা বাংলাদেশের মাঝে একটি আলাদা মুসলিম জাতিসংঘ গঠন করতে যাচ্ছ, একটি আলাদা দল গঠন করতে যাচ্ছ, একটি আলাদা রাষ্ট্র ভবন গঠন করতে যাচ্ছ, একটি আলাদা  সংসদ ভবন গঠন করতে যাচ্ছ, তা কিন্তু সহজ ব্যাপার নয়,  কাজটি অনেক কষ্টের, অনেক ধয্যের, অনেক অর্থের, অনেক সময়ের, অনেক শ্রমের, এবং দীর্ঘদিনের ব্যাপার,
তাতে  যদি তোমরা উত্তীর্ণ  হতে পারো তাহলে তোমাদের দ্বীন  কায়েম  ৮০% হয়ে যাবে,
কিন্তু বড় বিষয় হলো, এই জাতিসংঘ বা তোমাদের রাষ্ট্রীয় সরকার, তোমাদেরকে আলাদা মুসলিম জাতিসংঘ গঠনে স্বীকৃতি দিবেনা, তোমাদের দল প্রতিষ্ঠা করতে দিবেনা,
কারণ তোমাদের জাতিসংঘ হবে  ওদের জাতিসংঘের পরিপন্থী, যা হবে একটি ইসলামিক জাতিসংঘ,  যা হবে একটি বিদ্রোহী বিপ্লবী জাতিসংঘ, যা হবে একটি রাষ্ট্রীয়  ক্ষমতাশীল সরকারদের সাথে বিদ্রোহী জাতিসংঘ,  যা হবে একটি জাতিসংঘের সাথে বিদ্রোহী জাতিসংঘ, তাই এ জাতিসংঘ তোমাদেরকে কিছুতেই প্রতিষ্ঠা করতে দেবেনা,
আর করতে গেলে তোমাদেরকে দেশীয় আইন অমান্য করার অপরাধে, জাতিসংঘের পরিপন্থী কাজ করার অপরাধে, তোমাদেরকে  যুলুম নির্যাতন প্রদান করবে, তোমাদেরকে জেল জরিমানা প্রদান করবে, তোমাদেরকে ফাসি প্রদান করবে,
তবে জেনে রাখো  যদি তোমরা আলাদা মুসলিম  জাতিসংঘ, আলাদা রাষ্ট্র ভবন, আলাদা সংসদ ভবন, আলাদা মন্ত্রী ভবন, গঠন করতে পারো, তাহলে তোমরা দ্বীন কায়েমের পথে  ৮০% পরিপূর্ণতা হতে পারবে,
তাই আসুন তা কিভাবে করতে হবে তা জেনে নেই, মনে করো একটি শক্তিশালী  বিল্ডিং নির্মাণ করতে হবে,  তার জন্য অবশ্যই অবশ্যই  মাটির নিচে একটি শক্তিশালী ভিত্তি নির্মান  করতে হবে, যখন মাটির নিচের একটি শক্তিশালী ভিত্তি নির্মাণ হবে, তখন আর সে বিল্ডিং সহজে নষ্ট হবেনা৷
 এখন এই বিল্ডিং তৈরি করতে, এবং মাটির নিচে একটি শক্তিশালী ভিত্তি নির্মাণ করতে, কিছু ইটকে টুকরো টুকরো  হয়ে মাটির নিচে  যেতে হবে, এখন যদি সেই ইট গুলো বলে, না আমরা মাটির নিচে যাবনা, তাহলে কি সেই বিল্ডিং নির্মাণ হবে? কিছুতেই  হবেনা,
তাই এই  মুসলিম  জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা  করতে হলে, ঐ ইটের মতো তোমাদের কিছু লোককে মাটির নিচে  যেতে হবে, মানে শহীদ হতে হবে, তোমাদের কাউকে জেল হাজতে যেতে হবে, তোমাদের কাউকে ফাসির কাষ্ঠে ঝুলতে হবে, শত রক্তের বিনিময়ে শত ত্যাগ তিতিক্ষা পরিশ্রমের বিনিময়ে, তোমরা এই মুসলিম জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে, তার আগে কিছুতেই  নয়,
যখন তোমরা  আলাদা মুসলিম জাতিসংঘ গঠন করতে পারবে, তখন এ পৃথিবীর সবাই দেখবে আর বলবে, আজ বিশ্বের মাঝে দুটি জাতিসংঘ গঠিত  হয়েছে এর কারণ কি? তখন বিশ্বের সাধারণ জনতা  বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করবে, কেন মুসলিমরা ইহুদী খৃষ্টানদের জাতিসংঘ ছেড়ে কেন তারা আলাদা মুসলিম জাতিসংঘ গঠন  করল?
এরপর তোমাদের কাজ হবে, সেই ইহুদী খ্রিস্টানদের জাতিসংঘের মন্ত্রী পরিষদ নিয়ে, এবং ইহুদী খ্রিস্টানদের জাতিসংঘের ভোট কমিশনার নিয়ে, এবং তোমাদের রাষ্ট্রীয় মন্ত্রী পরিষদ নিয়ে, এবং রাষ্ট্রীয় ভোট কমিশনার নিয়ে, আলোচনায় বসা,
তাদেরকে সর্ব প্রথম ইসলামের দাওয়াত দিতে হবে, এবং আল্লাহর নাযিলকৃত সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করার কথা বলতে হবে, এতে যদি তারা রাজী হয় তাহলে আর কোন আলোচনা প্রয়োজন নেই, তোমরা তাদের অনুগত হয়ে তাদের আনুগত্য মেনে নিবে,
আর যদি তারা রাজী না হয়, তারা যদি আল্লাহর নাযিলকৃত সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা না করে, তাহলে তাদের সাথে আলোচনা করো, তাদের সাথে আলোচনা করো এভাবে,
আমরা আল্লাহর নাযিলকৃত সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চাই,
আর তোমরা গণতন্ত্র মানব রচিত সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চাও,
তাই আমাদের আর তোমাদের মাঝে  অনেক পার্থক্য,
আমরা চাই আল্লাহর উলুহিয়াত্ব শাষণ ব্যবস্থা,  আর তোমরা চাও শয়তানের উলুহিয়াত্ব শাষণ ব্যবস্থা,
তাই আমাদের সাথে তোমাদের কখনো মিল হবেনা, এবং আমাদের সাথে তোমাদের  সংঘাত সংঘর্ষ লেগেই থাকবে,
কারণ তোমরা আমাদেরকে গণতন্ত্র মানব রচিত সংবিধান মেনে নেওয়ার জন্য  আহব্বান করবে, কিন্তু আমরা তোমাদের গণতন্ত্র মানব রচিত সংবিধান কখনো মেনে নিতে পারবোনা, কারণ এ মেনে নিলে আমাদের ঈমান থাকবেনা, তাই তোমাদের সাথে আমাদের সংঘর্ষ সংঘাত মনোমালিন্য লেগেই থাকবে, তাই আমরা প্রথমে দুটি প্রতীক নিয়ে ভোট নির্বাচন করবো৷
১ কোরআনতন্ত্র, (তথা আল্লাহ রচিত  সংবিধান নিয়ে)
২ গণতন্ত্র, (তথা  মানব রচিত সংবিধান নিয়ে)
এই ভোটে যদি আমরা জয়ী হই, যদি দেশের জনগন কোরআনতন্ত্র আল্লাহ রচিত সংবিধানের পক্ষে ভোট দেয়, তাহলে আমাদের দল মন্ত্রী নির্বাচন করে তারা আল্লাহ রচিত সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে৷
আর যদি তোমাদের দল ভোটে জয়ী হয়, যদি দেশের জনগণ গণতন্ত্র মানব রচিত সংবিধানের পক্ষে ভোট দেয়, তাহলে তোমাদের দল মন্ত্রী নির্বাচন করে তারা গণতন্ত্র মানব রচিত সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে,
এতে আর আমাদের কিছু করার নেই, কারণ গণতান্ত্রিক প্রযায়ে নেতা নির্বাচনের নিয়ম হলো জনগনের  হাতে, জনগন যাকে ভোট  দেবে সেই নেতা হবে, এখানে আর কারো কোন ক্ষমতা থাকবেনা,
 এভাবে তাদের সাথে খোলা মেলা চুরান্ত আলোচনা করতে হবে,  যদি তারা দেশের গণতান্ত্রিক নিয়ম কানুন মেনে চলে, গণতান্ত্রিক ন্যায্য অধিকার সকলকে প্রদান করে, যদি তাদের গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস আস্থা থাকে, জনগনকে সকল ক্ষমতার অধিকারি মনে করে, এবং দেশের শান্তি  শৃংখলা চায়, দেশের মধ্যে অরাজকতা না চায়, দেশের উন্নয়ন চায়, জনগনের উন্নয়ন চায়, তাহলে তাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই এ আলোচনা মেনে নিতে হবে,
 আর যদি তারা দেশ জনগনের এমন ভালো না চায়, তাহলে তারা তোমাদের এ আলোচনা মেনে নিবেনা, তারা ক্ষমতার জোরে এ দেশে প্রভুত্ব কায়েম করবে, এবং তোমাদেরকে জেল জরিমানা ফাসিতে ঝুলাবে,
তাই তাদের সাথে আলোচনায় না বসলে বুঝা যাবেনা তাদের আসল  উদ্দোশ্য কি? গণতান্ত্রিক শাষণ ব্যবস্থা না স্বৈরতান্ত্রিক শাষণ ব্যবস্থা,
এভাবে তাদের সাথে  সরাসরি  আলোচনা করলে তাদের গতি বিধি বুঝা যাবে, এবং দেশের সাধারণ জনতা স্পষ্ট  বুঝে যাবে, তোমরা সত্যিকারে মুসলিম, তোমাদের তন্ত্র হলো আল কোরআন, তোমাদের সংবিধান হলো আল কোরআন, আর তোমরা মুসলিম জাতিসংঘ থেকে আল্লাহ রাসুল প্রদত্ত দ্বীন কায়েম শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা করবে,
অন্য দিকে ইহুদী খ্রীষ্টান হিন্দু বৌদ্ধরা  যে জাতিসংঘ আবিষ্কার করেছে, সে জাতিসংঘের তন্ত্র  হলো গণতন্ত্র, আর তাদের সংবিধান হল গণতান্ত্রিক সংবিধান, তারা এ জাতিসংঘ থেকে শয়তান তাগুত প্রদত্ত দ্বীন কায়েম শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা করবে, এভাবে দেশের জনগণ স্পষ্ট পরিস্কার ভাবে বুঝতে পারলে তখন তারাই চিন্তা  করবে  তারা কাকে ভোট দেবে,
তারপরেও দেশের জনগণকে খোলা মেলা পরিস্কার ভাবে বুঝাতে হবে, আর এটাই হচ্ছে মূল বিষয়, যেহেতু গণতন্ত্রের সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ, জনগণ যার পক্ষে একটি ভোট বেশি দিবে সেই নির্বাচিত হবে, সেই ব্যক্তি যাই হোক না কেন,
কারণ গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির  নিয়ম অনুযায়ী যে একটি ভোট বেশী পাবে,  নির্বাচন কমিশন তার পক্ষে রায় প্রদান করবে, যদিও সে ভোট গুলি  অন্যায় ভাবে দখল করে, যদিও সে ভোট গুলি তার নিজের দলীয় কর্মী দিয়ে জোর জবরদস্তি করে নিজের পক্ষে সংগ্রহ  করে, তবুও নির্বাচন  কমিশন তা দেখবেনা, নির্বাচন কমিশনের  নীতি হলো যে একটি  ভোট বেশি পাবে  তাকে  নির্বাচনে জয়ী করা, তার পক্ষে রায় প্রদান করা, আর নির্বাচন কমিশন তাই করে,
সে যেভাবে  ভোট আদায় করুক না কেন, সেটা  তার দেখার বিষয় নয়, তার দেখার বিষয়  হলো যার দিকে একটি ভোট বেশি  তাকেই  নির্বাচনে জয়ী ঘোষনা দেওয়া,
আর এই ভোটগুলি প্রদান করে দেশের  জনগণ, দেশের জনগণ যদি তাগুত নাস্তিক  কাফের বেইমান মোনাফেকের পক্ষে ভোট  প্রদান করে, তাহলে সেই তাগুত নাস্তিক কাফের বেঈমান মোনাফেক নির্বাচনে জয়ী হবে,
যদি দেশের জনগণ কোন ইহুদী খ্রীষ্টান হিন্দু বৌদ্ধকে ভোট প্রদান করে তাহলে তারাই নির্বাচনে জয়ী হবে,
আবার  এই দেশের জনগণ যদি কোন মুসলিম  মোমিন  মোত্তাকী  ব্যক্তিকে ভোট প্রদান করে তাহলে সেই মুসলিম মোমিন মোত্তাকী  ব্যক্তি নির্বাচনে জয়ী হবে,
এভাবে দেশের জনগণ যদি গণতন্ত্র মানব রচিত সংবিধানের পক্ষে ভোট  প্রদান করে  বা দেশীয় সংবিধানের পক্ষে ভোট প্রদান করে তাহলে দেশে গণতান্ত্রিক  সংবিধান প্রতিষ্ঠিত হবে,
আবার এই জনগণ যদি কোরআনতন্ত্র আল্লাহর সংবিধানের পক্ষে ভোট প্রদান করে তাহলে কোরআনতন্ত্র জয়ী হবে,
 নির্বাচন কমিশন তাদের পক্ষে রায় প্রদান করবে, এটাই  হলো নির্বাচন কমিশনের নীতি এটাই হলো গণতন্ত্রের নীতি৷
 এখন আমাদের কাজ হবে  এ দেশের জনগনকে ভালো  ভাবে, পরিস্কার ভাবে স্পষ্ট  ভাবে বুঝানো, জনগন কোরআনতন্ত্র আল্লাহ রাসুল  প্রদত্ত সংবিধানের পক্ষে ভোট দেবে,  না গণতন্ত্র মানব সংবিধানের পক্ষে ভোট দিবে? জনগন আল্লাহর আইন কানুন বিচার ফায়সালার পক্ষে ভোট দিবে? না মানব রচিত আইন কানুন বিচার ফায়সালার পক্ষে ভোট দেবে? জনগণ আল্লাহ রাসুল প্রদত্ত দ্বীন কায়েম শরীয়াহ এর পক্ষে ভোট দেবে? না শয়তান তাগুত প্রদত্ত   দ্বীন কায়েম শরীয়াহ এর পক্ষে ভোট দেবে?
এভাবে দেশের  জনগণকে ভালো ভাবে স্পষ্ট করে বুঝাতে হবে, এ বুঝানোর লক্ষ বিধি  হবে দু রকমের
 ১ দাওয়াতী প্রচারের মাধ্যমে
২ আলাদা ভাবে রাষ্ট্রীয় নির্বাচন করার মাধ্যমে,
১ দাওয়াতী প্রচারের মাধ্যমে জনগণকে বুঝাতে হবে তোমরা গণতন্ত্র মানব রচিত সংবিধানের পক্ষে ভোট দেবে না  কোরআনতন্ত্র আল্লাহর রচিত সংবিধানের পক্ষে ভোট দিবে?
তোমরা শয়তান তাগুত প্রদত্ত দ্বীন কায়েম শরীয়াহ  এর  পক্ষে ভোট দেবে? না  কোরআনতন্ত্র আল্লাহ রাসুল প্রদত্ত দ্বীন কায়েম শরীয়াহ এর পক্ষে ভোট দেবে?
 তোমরা গণতন্ত্র মানব রচিত সংবিধান শয়তান তাগুত প্রদত্ত দ্বীন কায়েম শরীয়াহ মেনে নিবে, না তোমরা কোরআনতন্ত্র আল্লাহ  প্রদত্ত সংবিধান দ্বীন কায়েম শরীয়াহ মেনে নিবে?
তবে জেনে রাখো গণতন্ত্র মানব রচিত সংবিধান শয়তান তাগুত প্রদত্ত দ্বীন কায়েম শরীয়াহ মেনে নেওয়া শিরক কুফুর, মুসলিম  থেকে বহিস্কৃত,
 এমনি ভাবে কোনআনতন্ত্র আল্লাহর রচিত সংবিধান আল্লাহ রাসুল প্রদত্ত দ্বীন কায়েম শরীয়াহ  মেনে নেওয়া আল্লাহর গোলাম ঈমানের লক্ষণ মুসলিমের মধ্যে প্রবেশিত,
 তোমরা আল্লাহর  সংবিধান  মেনে নিয়ে মুসলিম থাকবে? না তোমরা মানব রচিত  সংবিধান  মেনে নিয়ে মুসলিম থেকে বহিস্কৃত হবে?
এভাবে দেশের জনগণকে পরিষ্কার ভাবে  বুঝাতে হবে, যাতে তারা পরবর্তীতে তোমাদের প্রতি বিদ্রোহ  বিক্ষোভ করতে না পারে,
২ এর সাথে সাথে তোমরা যে আলাদা ভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পাওয়ার জন্য, আলাদা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে, সে পথে তোমাদেরকে চলতে হবে,
কারণ তোমরা যখন জনগণকে বুঝাবে তোমাদের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য, তখন দেশের জনগণ তারাও দেখবে তোমরা ব্যতিক্রম  কি না?
তোমরা ঈমানদার কি না? তোমরা ঈমানের পথে ইসলামের পথে ন্যায়ের পথে ইনসাফের পথে পরিপূর্ণতা আছো কি না, যদি দেশের জনগণ তোমাদের সবকিছুর সত্যতা প্রকাশ পায়, তাহলে দেশের জনগণ তোমাদেরকে ভোট প্রদান করবে,
তাই তোমাদেরকে প্রথম পর্যায়ে দুটি ভোট নির্বাচন করতে হবে,
1 কোরআনতন্ত্র  (তথা আল্লাহ রচিত সংবিধানের পক্ষে)
2 গণতন্ত্র (মানব রচিত সংবিধানের পক্ষে)
 এখন এখানে দেখার বিষয় জনগণ কোন পক্ষে ভোট দেবে, যেহেতু  গণতন্ত্রের নির্বাচন মানে জনগণের ভোটের অগ্রধিকার জনগণ  যার পক্ষে ভোট দেবে সেই নির্বাচনে জয়ী হবে, যদি দেশের জনগণ কোরাআনতন্ত্র আল্লাহ রচিত  সংবিধানের পক্ষে ভোট প্রদান করে, তাহলে কোরআনতন্ত্রের পক্ষে নির্বাচন কারী ব্যক্তিরা জয়ী হবে, তারা আল্লাহর রাসূল প্রদত্ত  দ্বীন কায়েম শরিয়াহ প্রতিষ্ঠা করবে, তারা আল্লাহ-রাসূলের সংবিধান দিয়ে দেশ রাষ্ট্র পরিচালনা করবে গণতন্ত্রের নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত,
আর যদি দেশের জনগণ গণতন্ত্র মানব রচিত সংবিধানের পক্ষে ভোট প্রদান করে, তাহলে গণতন্ত্রের পক্ষে নির্বাচন কারী ব্যক্তিরা জয়ী হবে, তারা তাদের গণতন্ত্র  মানব রচিত সংবিধান শয়তান তাগুত প্রদত্ত দ্বীন কায়েম শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা করবে, যা বর্তমান বাংলাদেশে চলমান আছে,
 কিন্তু  সে চলমান  তাদের একক ভাবে তাদের কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই, তারা এক চেটিয়া শয়তান তাগুত প্রদত্ত দ্বীন কায়েম শরিয়াহ  প্রতিষ্ঠা করে যাচ্ছে,
আর যদিও ইসলামের লেভেল দিয়ে দু একজন আছে তারা তাদের চাচাতো ভাই, তারা ঐ গণতন্ত্র নামক ঐ একই সূত্রে গাঁথা, তারা নির্বাচনে জয়ী হয়েও ইসলামের কোন উপকার করতে পারবে না, আর তারা নির্বাচনে জয়ী না হলেও ইসলামের কোন ক্ষতি করতে পারবেনা,
 যার উদাহরণ একটি দেই, একবার দেলোয়ার হোসেন সাঈদী গণতান্ত্রিক ভোটে জয়ী হয়েছিলো, সে জয়ী হয়ে যখন সংসদ থেকে  মদ  হারাম  ঘোষণা দিতে চাইলো, মদের আইন বাতিল করতে চাইলো, কিন্তু সে সংসদ থেকে মদ হারাম ঘোষণা করতে পারলোনা, এবং সংসদ থেকে  মদের আইন বাতিল করতে পারলোনা,
এ থেকে বুঝা যায় যারা ইসলামের লেভেল লাগিয়ে, ওদের  গণতন্ত্রের মাধ্যমে, ওদের জাতিসংঘের মাধ্যমে, ওদের ব্যালট পেপারের মাধ্যমে, ওদের নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে, ওদের নির্বাচনী ব্যবস্থার মাধ্যমে, নির্বাচন করে,  যদি তারা এতে জয়ী হয় তাহলে তারা ইসলামের কোন উপকার করতে পারবে না,
তারা কখনো ঐ সংসদ থেকে কোরআনের বিধি বিধান প্রতিষ্ঠা করতে পারবেনা, তারা কখনো ঐ সংসদ থেকে গণতন্ত্র মানব রচিত সংবিধান উৎখাত করে সেখানে কোরআনতন্ত্র আল্লাহ রচিত সংবিধান প্রতিষ্ঠা করতে  পারবেনা,
তারা কখনো মানব রচিত গণতন্ত্রের নেতা হয়ে কোরআনতন্ত্র দিয়ে দেশ পরিচালনা করতে পারবেনা, তারা কখনো ঐ সংসদ থেকে আল্লাহর আইন দিয়ে দেশ পরিচালনা করতে পারবেনা,
কারণ তাদের ঐ সংসদ হলো গণতন্ত্রের সংসদ, মানব রচিত সংবিধানের সংসদ, শয়তান তাগুত প্রদত্ত দ্বীন কায়েমের সংসদ, তারা নির্বাচনে জয়ী হয়েও কোনদিন ঐ সংসদ থেকে আল্লাহর দ্বীন কায়েম  করতে পারবেনা,
তাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই ঐ গণতন্ত্র মানব রচিত সংবিধানের সংসদ  থেকে বাহির  হয়ে আসতে হবে, তাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই ইহুদি  খ্রিস্টান  হিন্দু বৌদ্ধদের  সংসদ থেকে বাহির  হয়ে আসতে হবে, তাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই শয়তান তাগুত প্রদত্ত দ্বীন কায়েম শরীয়াহ সংসদ  থেকে বাহির  হয়ে আসতে হবে,
তাদের অবশ্যই অবশ্যই কোরআনতন্ত্র  প্রতিষ্ঠিত করতে হলে, আল্লাহ রাসুল প্রদত্ত দ্বীন কায়েম শরীয়াহ কায়েম করতে হলে, তাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই আলাদা একটি মুসলিম  সংসদ ভবন তৈরি করতে হবে, আলাদা জাতিসংঘ তৈরি করতে হবে, আলাদা ভোট কমিশনার গঠন  করতে হবে, আলাদা  ব্যালট পেপার তৈরি করতে হবে, আলাদা মন্ত্রী ভবন তৈরি করতে হবে, তাহলে তারা দ্বীন কায়েম করতে পারবে, আল্লাহর বিধি বিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারবে,
এক কথায় দেশের সাধারণ জনগণকে পরিষ্কার ভাষায় বুঝাতে হবে, ঐ জাতিসংঘ ঐ সংসদ ভবন ঐ মন্ত্রী ভবন ঐ ভোট নির্বাচন কমিশন, ওরা সবাই শয়তান তাগুত প্রদত্ত দ্বীন কায়েম শরিয়াহ প্রতিষ্ঠাকারী, ওরা সবাই গণতন্ত্র  মানব রচিত সংবিধান দিয়ে দেশ রাষ্ট্র পরিচালনাকারী,
 আর আমরা আল্লাহর রাসূল প্রদত্ত  দ্বীন কায়েম শরিয়াহ প্রতিষ্ঠা কারী, আমরা কোরআনতন্ত্র  তথা আল্লাহর রচিত সংবিধান দিয়ে দেশ পরিচালনাকারী,
যাতে দেশের জনগণ তোমাদেরকে  ভোট দিয়ে জয়ী করে, তোমাদেরকে  দেশের শাসন কর্তা নিয়োগ করে, আবার যেন তোমাদের উপর বিদ্রোহ না করে,
কারণ  যখন  তোমরা তাদের উপর কোরআনের বিচার কায়েম করবে, তখন যেন তারা তোমাদের উৎখাতের জন্য মাঠে না নামে, যেমন নেমেছিল কিছুদিন আগে মিসরের জনগণ মুরশির উপরে, তাই দেশের জনগণকে আগে পরিস্কার ভাষায় বোঝাতে হবে,
 কোরআনতন্ত্র কি? আর গণতন্ত্র কি? কোরআনতন্ত্রের শাসন কি? আর গণতন্ত্রের শাসন কি? আল্লাহ রাসুল প্রদত্ত দ্বীন কায়েম শরীয়াহ এর শাসন কি? আর শয়তান তাগুত প্রদত্ত  দ্বীন কায়েম  শরীয়াহ এর শাসন কি? গণতন্ত্র  মানব রচিত সংবিধান দেশীয় সংবিধান শয়তান তাগুত প্রদত্ত  দ্বীন কায়েম শরিয়াহ মেনে নিলে মুসলিম কি আর মুসলিম থাকে? না সে মুসলিম থেকে বহিস্কৃত হয়ে যায়? এমনি ভাবে কোরআনতন্ত্র আল্লাহ রচিত  সংবিধান আল্লাহ রাসুল প্রদত্ত  দ্বীন কায়েম শরিয়াহ মেনে নিলে একজন পথভ্রষ্ট  মানুষ কি হয়ে যায়? কি ভাবে একজন পথভ্রষ্ট মানুষ মোমিন  মোত্তাকী  হয়ে যায়?
 এভাবে দেশের জনগণকে পরিস্কার ভাষায় বুঝাতে হবে, যখন দেশের জনগণ পরিষ্কার ভাষায় বুঝবে গণতন্ত্র মানব রচিত সংবিধান শয়তান তাগুত প্রদত্ত  দ্বীন  কায়েমের শরিয়াহ মেনে নেওয়া শিরক কুফর মুসলিম থেকে বহিস্কৃত, জান্নাতের পথ থেকে বহিস্কৃত, তখন দেশের সাধারণ জনগণ এ গণতন্ত্র মানব রচিত সংবিধান শয়তান তাগুত প্রদত্ত দ্বীন কায়েম শরীয়াহ, এর পিছে লাথি মেরে তারা দলে দলে কোরআনতন্ত্র  তথা আল্লাহ রচিত সংবিধান এর পথে, আল্লাহর রসূল প্রদত্ত দ্বীন কায়েম শরীয়াহ পথে দলে দলে প্রবেশ করবে, আর তখনেই তোমরা গণতান্ত্রিক ভোট পদ্ধতির মাধ্যমে জয়ী লাভ করবে, আল্লাহর বিধি বিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারবে,
তাই এখন  তোমাদের সামনে চারটি কাজ,
১ দেশের সকল জনগণকে পরিষ্কার ভাষায় বুঝাতে হবে,
 ২ ইহুদি খ্রিস্টান হিন্দু বৌদ্ধদের জাতিসংঘ ত্যাগ করে আসতে হবে, গণতন্ত্র মানব রচিত সংবিধানের জাতিসংঘ ত্যাগ করে আসতে হবে, শয়তান তাগুত প্রদত্ত  দ্বীন কায়েম শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার জাতিসংঘ ত্যাগ করে আসতে  হবে,
৩ এবং তোমাদেরকে আলাদা মুসলিম জাতিসংঘ গঠন করতে হবে,  কোরআনতন্ত্র তথা আল্লাহ রচিত  সংবিধানের জাতিসংঘ গঠন করতে হবে, আল্লাহ রাসুল প্রদত্ত  দ্বীন কায়েম শরীয়াহ জাতিসংঘ গঠন করতে হবে,
৪ তারপর তোমাদেরকে তাদের বিরুদ্ধে  নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে,
 এই চারটি কাজ  তোমাদের জন্য বিশেষ প্রয়োজন, যদি এতে তোমাদের প্রতি আল্লাহর খুশি হয়, আল্লাহর মনোনীত হয়, তবেই আল্লাহ তোমাদেরকে  বিজয় দান করবেন, তবেই তোমরা গণতান্ত্রিক ভোট  পদ্ধতির মাধ্যমে আল্লাহর দ্বীন কায়েম করতে পারবে,
এখন আর একটা বিষয় রয়ে গেল তা হচ্ছে নেতা নির্বাচন, যখন এদেশে দুটি নির্বাচনের মাধ্যমে,
 ১ আল্লাহর রাসূল প্রদত্ত দ্বীন কায়েম শরিয়াহ  প্রতিষ্ঠার নির্বাচন,
(তথা কোরআন-তান্ত্রিক নির্বাচন)
 ২ শয়তান তাগুত প্রদত্ত দ্বীন কায়েম শরিয়াহ  প্রতিষ্ঠার  নির্বাচন,
(তথা গণতান্ত্রিক নির্বাচন)
 এই দুটি  নির্বাচনের মাধ্যমে তোমরা জয়ী হলে, তোমাদেরকে এ দেশের জনগণ ভোট দিল, এক্ষেত্রে তোমাদের নেতা কে হবে?  এ নিয়ে একটি বিভ্রান্ত হতে পারে তোমাদের মাঝে,
কারণ বাংলার জমিনে অনেক ইসলামী দল আছে তারা সবাই বলে আমরাই সঠিক, আমরাই আল্লাহ রাসুলের সঠিক অনুসারী, আমরাই ইসলামের নেতা হওয়ার উপযোগী, এভাবে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ইসলামিক দলের নেতারা নিজের পক্ষে রায় ঘোষণা দিবে, এবং তারা নিজেকে অধিক হক মনে করবে, এ ক্ষেত্রে কে নেতা হবে?
 প্রথমত ইসলামী দলের নেতা সেই হবে, যে ইসলামিক  দলের আলেমরা তাদের সকল অর্থ ব্যয় করে আলাদা একটি জাতিসংঘ গঠন করেছে, আলাদা একটি  সংসদ ভবন গঠন করেছে, আলাদা  একটি  রাষ্ট্র ভবন গঠন করেছে, আলাদা একটি  মন্ত্রী ভবন গঠন করেছে, আলাদা ভোট কমিশনার  গঠন করেছে, আলাদা ব্যালট পেপার তৈরি করেছে, জনগণের মাঝে বক্তৃতা দিয়েছে, এজন্য তাদের  উপর নেমে এসেছে অমানবিক যুলুম নির্যাতন, তারা জেলে গিয়েছে, তারা  জুলুম যাতনায় শিকার  হয়েছে, এমনকি তাদের কাউকে প্রথম পর্যায়ে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হয়েছে, যারা ফাঁসির দড়ি গলায় দিয়ে, ইসলামের ভিত্তি  নির্মান করে গিয়েছে,  যারা ফাসির দড়ি গলায় দিয়ে মহা বিপ্লবের অভিযান, কোরআন-তান্ত্রিক প্রতিষ্ঠার অভিযান, আল্লাহ রাসুল প্রদত্ত দ্বীন কায়েম শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার অভিযান, স্থাপিত করে গিয়েছে, এবং যারা সেই কাজে চলমান আছে, সেই দলের আলেমরা প্রথম পর্যায়ের নেতা হওয়ার অধিক হকদার,
কারণ তাদের রক্তের বিনিময়ে, তাদের শ্রমের বিনিময়ে, তাদের সম্পদের বিনিময়ে, তাদের সময়ের বিনিময়ে, তাদের জীবনের বিনিময়ে, তারা এই আল্লাহর রাসূল প্রদত্ত  দ্বীন কায়েম শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে, তাই  প্রথম পর্যায়ের নেতা হওয়ার  অধিক  হকদার তারাই,
এখন যদি এই কাজ দেশের সকল ইসলামী দলের আলেমরা করে, তাহলে এ ক্ষেতে কে নেতা হবে? এ পর্যায়ে কয়েকটি নিয়ম হবে,
১ প্রত্যেক দলের দুইজন করে বড় বড় জ্ঞানী আলেমকে  নিয়ে গঠিত  হবে মন্ত্রী পরিষদ ভবন, আর এরাই দেশের শাসন ব্যবস্থার প্রধান প্রধান পদে অধিষ্ঠিত  থাকবে,
২  এদের কয়েক জনের মধ্যে একটি সূরা বোর্ড গঠন হবে, এদের কয়েক জনের মধ্যে যে ব্যক্তি অধিক সমর্থিত পাবে সে হবে প্রধানমন্ত্রী,
 ৩ অথবা তিন জন বিশিষ্ট একটি টিম গঠন করতে হবে, এই তিন জন ব্যক্তি এদের কয়েকজনের কাছে যাবে, তারা তাদের কাছে লিখিত সাক্ষ্য নেবে, কে কাকে সমর্থন করে, এভাবে যে বেশি সমর্থন পাবে সেই হবে প্রধানমন্ত্রী,
৪ অথবা এই কয়েক জনের মধ্যে একটি নির্বাচন হবে, সবাই নির্বাচনে প্রার্থী হবে, কিন্তু কেউ নিজের ভোট নিজেকে  দিতে পারবেনা, প্রত্যেকে প্রত্যেককে ভোট দেবে, যে ভোট বেশি পাবে সেই হবে প্রধানমন্ত্রী, তাহলে এর মাঝে আর কোন সংশয় থাকবেনা,
এভাবে প্রধান প্রধান পদে সেই পদ্ধতির মাধ্যমে ভোট নির্বাচন করে, যে ভোট বেশি পাবে সেই হবে দ্বিতীয় তৃতীয় চতুর্থ পঞ্চম এভাবে মন্ত্রী পদ চলমান থাকবে, তাহলে আর  কারো মাঝে কোন সংশয় সন্দেহ থাকবেনা৷
কারণ এখানে সবাই বিজ্ঞ বিজ্ঞ জ্ঞানী গুণী  আলেম সৎ আল্লাহ ভীরু মোমিন মোত্তাকী, তারা কেউ ক্ষমতা নিয়ে চাতুরী করবেনা, কারণ তাদের সবার উদ্দেশ্য আল্লাহর জমিনে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা  করা, আল্লাহর বিধি বিধান  দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা, তথা খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা, তা যার কারো মাঝে  হউক না কেন,
এখন যদি কেউ ১ নং নিয়ম পদ্ধতি মেনে নিতে  রাজি না হয়, যদিও এ নিয়মটি এ পদ্ধতিটি উত্তম ও শ্রেষ্ঠ, এবং সাহাবীদের নিয়ম পদ্ধতি, তারপরেও যদি কেউ এ  নিয়ম  পদ্ধতি  মেনে নিতে না চায়,  যদি কেউ নিজের দলের প্রভাব দেখায়, বা একক ভাবে  গণতান্ত্রিক নিয়ম অনুসারে তাদের দলের মধ্যে  ইসলামীক শাসন ক্ষমতা  প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাহলে দ্বিতীয় নিয়ম পদ্ধতি অনুসারে কাজ করতে হবে,
দ্বিতীয় নিয়ম পদ্ধতি হবে এই, তারা সকল ইসলামিক দলের নেতারা  জনগণের সামনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, জনগন যে ইসলামিক দলকে ভোট বেশি  দিবে সে রাষ্ট্রীয় নেতা হবে, সে দল  আল্লাহর নাযিলকৃত সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, তথা আল্লাহ রাসুল প্রদত্ত দ্বীন কায়েম শরীয়াহ  প্রতিষ্ঠা করবে,
 তবে এখানে কয়েকটি শর্ত আছে,
১ যে সকল ইসলামিক দল এই শর্ত গুলোতে রাজী হবেনা তারা ভোট নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে পারবেনা,
২ ভোটের বিনিময়ে কোন প্রকার বক্তিতা মিটিং মিছিল করা যাবেনা, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রতেক জেলা ভিত্তিক, থানা ভিত্তিক, ইউনিয়ন ভিত্তিক, ওয়ার্ড ভিত্তিক, দলীয় প্রতীক ঘোষনা দেওয়া হবে, এবং ঘোষনা দেওয়ার  পাচ দিন পরে ভোট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে,
৩ ভোটের বিনিময়ে কোন ইসলামিক দল অন্য ইসলামিক  দলের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করতে পারবেনা,
৪ ভোটের বিনিময়ে কোন ইসলামিক দল অন্য কোন ইসলামিক দলের খারাপ  চিত্র  জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারবেনা, এবং জনগনকে ক্ষেপিয়ে তাদের বিরোধিতায় লিপ্ত করাতে পারবেনা,
৫ ভোটের বিনিময়ে কোন ইসলামিক দল অন্য ইসলামিক দলকে গালি গালাজ করতে পারবেনা,
৬ ভোটের বিনিময়ে  কোন ইসলামিক দল অন্য ইসলামিক দলকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করতে পারবেনা,
৭ ভোটের বিনিময়ে কোন ইসলামিক দল অন্য ইসলামিক দলকে বিদআতি, কুফুরকারী, শিরককারী, মাযহাবী, লামাযহাবী, বলে গালি গালাজ করতে পারবে না, এবং তাদের বিরুদ্ধে জনগনের সামনে বলে জনগনকে ক্ষেপানো যাবেনা, কারণ বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ইসলামিক দলের মাঝে কিছুনা কিছু ভুল আছে,
৮ যে সকল ইসলামিক দল ভোটে  জয়ী হওয়ার পর, আল্লাহর নাযিলকৃত সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে না, তথা আল্লাহ রাসুল প্রদত্ত দ্বীন কায়েম শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা করবেনা, তারা ক্ষমতায়  থাকতে পারবে না, তাদেরকে অবশ্যই অবশ্যই ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে, এবং ইসলামিক দল হতে বাহির হতে হবে, এবং তাদের স্থান হবে গণতান্ত্রিক মানব রচিত সংবিধানের প্রতিষ্ঠা কারীদের সাথে,
৯ ভোটের বিনিময়ে কোন প্রকার অর্থ ব্যয় করা যাবেনা,
 ১০ ভোটের বিনিময়ে কোন প্রকার অর্থ জনগনকে দেওয়া যাবেনা,
১১ জনগণ যাকে ভোট দেবে সেই ইসলামিক নেতা হবে, গণতান্ত্রিক মেয়াদ অনুযায়ী সে ইসলামিক দল আল্লাহর নাযিলকৃত সংবিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, তথা আল্লাহ রাসুল প্রদত্ত দ্বীন কায়েম শরীয়াহ প্রতিষ্ঠা করবে,
 এক্ষেত্রে আর একটি সংশয় থেকে যাচ্ছে তা হলো আমাদের দেশের সকল ইসলামীক দলের আলেমরা এরা একজন আর একজনকে বিদআতি বলে শিরক কুফুর প্রতিষ্ঠাকারী বলে, ইহুদী খ্রিস্টানদের চক্রান্তকারী দালাল বলে,  ফিতনা ফাসাদ সৃষ্টিকারী বলে, মাযহাবী বলে, লা মাযহাবী বলে, গায়রে মুকাল্লিদ বলে, গোমরাহী বলে, মাযারপুজারি বলে, ফাসেক  মোনাফেক বেইমান নাফরমান বলে,
তাহলে যে ইসলামিক রাষ্ট্রের নেতা হবে তাকে তো অনেক ইসলামিক দল মানবেনা, তাহলে তো ইসলামিক রাষ্ট্রের মাঝে অনেক ফিতনা ফ্যাসাদ সৃষ্টি হবে, অনেক মতানৈক্য সৃষ্টি হবে, একে অপরের বিরোধিতা করবে তাহলে এক্ষেত্রে উপায় কি?
 আসলে এই সব ইসলামিক দলের আলেমদের মাঝে যেসব  বিষয় নিয়ে বিরোধ হয় তার অধিকাংশ বিরোধ হয় মাসআলা নিয়ে,
যেমন নামাজের মাসআলা , রোজার মাসআলা, হজ্জের মাসআলা, ওজুর মাসআলা, বিয়ে তালাকের মাসআলা, জিহাদের মাসআলা, এক ইসলামী দলের আলেম একটা বলে, আর এক ইসলামিক দলের আলেম আর একটা বলে, এই নিয়ে তাদের মাঝে শুরু হয় বিরোধ, কারণ এক আলেম এক  ভাবে মাসআলা দেয়, আর এক আলেম আর এক ভাবে মাসাআলা দেয়, এখন এর সমাধান কি?
এর  সমাধান একটি যে ইসলামিক দল ইসলামিক রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী  হবে, সে প্রধানমন্ত্রীর কাজ হবে সে নিজেকে সহনশীল ভাবে গড়ে তুলবে,  নিজের মাঝে রাগ হিংসা বিদ্বেষ ক্রোধ অহংকার কোন কিছু রাখবেনা, সে সব কিছু ভুলে  অন্য দলের প্রতি বেশি মহব্বত সৃষ্টি  করবে, এবং তাদের প্রতেকটি  ইসলামিক  দলের মাঝ থেকে দুইজন বড় বিদ্বান জ্ঞানী আলেমকে নিয়ে একটি ইসলামিক ফতোয়া বোর্ড গঠন করবে,
তারা সকলেই আল্লাহ রাসুলের  প্রিয় মহব্বতে, এবং মুসলিম উম্মাহর বিরল ঐক্যের স্বার্থে, তারা সব কিছ ভুলে নিজের মাঝে সহনশীল গড়ে তুলবে, ভালোবাসা সৃষ্টি করবে, তারা সেখান থেকে সকলে  মিলে কোরআন হাদীস গবেষণা করে ফতোয়া প্রদান করবে,
এখন সেই ফতোয়া কোন মাযহাবের  বিরুদ্ধে  চলে  যাবে সেটা দেখার বিষয় নয়, কারণ আমাদের সকল দলের বড় বড় আলেমরা সেখানে বসে তারা কোরআন হাদীস গবেষণা করে  তারা  সবাই ঐক্য হয়ে ফতোয়া প্রদান করছে, এটাই  আমাদের কে মানতে হবে, এবং ইসলামি রাষ্ট্রের শাষক  এটাকে প্রচার করবে,
 ওহে  মুসলিম উম্মাহ এটা কি ইসলামের জন্য ভালো নয়? এটা কি মুসলিমের জন্য শ্রেষ্ঠ ঐক্য  নয়?  এটা কি মুসলিম উম্মাহকে এক করার জন্য সঠিক পদ্ধতি নয়? তাহলে তোমরা কেন তাদের বিরোধিতা করবে?
না হয় একটি মাসআলা তোমার মাযহাবের বিরুদ্ধে চলে গেছে, তাতে কি হয়েছে? এর জন্য কি তুমি তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ  করবে? তাদেরকে তুমি অমান্য  করবে? তাদের কথা শুনবে না? তাদের বিরোধিতা করবে? একটি কথা জেনে রাখো তুমি যদি মুসলিম সমাজের ঐক্যের বিরোধীতা করো, তাহলে তুমি মুসলিম থেকে খারিজ হয়ে যাবে,
কারণ যে সমস্ত আলেম গণ ঐক্যের জন্য  সকল কিছুর মাসআলা এক করার জন্য তারা  সকল ইসলামী দলের আলেমদেরকে ঐক্য করে যে ফতোয়া বোর্ড গঠন করেছে, এর চেয়ে  ভালো কাজ আর কি হতে পারে? জেনে রাখ এই  মুসলিম সমাজে যে ফতোয়া বোর্ডের ঐক্যের  বিরোধিতা করবে সে দল জাতি-গোষ্ঠী কখনো মুসলিম দলে  থাকতে পারবেনা,
যদি একান্ত তোমার মাসআলা সঠিক হয়, তাহলে তুমি তোমার মাযহাবের আলেমকে ধরো, কারণ সে ঐ ফতোয়া বোর্ডে জড়িত আছে, সে ঐ ফতোয়ার  স্বীকৃতি দিয়েছে, আর তুমি তো তার চেয়ে বড় আলেম নও? তার চেয়েতো তুমি বড় জ্ঞানী বিজ্ঞ নও?
তাই যে ইসলামী দল একক ভাবে ক্ষমতায় যাবে, তাদেরকে এই কাজটি অবশ্যই অবশ্যই  খুব গুরুত্ব সহকারে করতে হবে, তাহলে তোমাদের ইসলামিক রাষ্ট্রে মাযহাব নিয়ে মাসআলা নিয়ে আর কোন মতোবিরোধ থাকবেনা, সবাই তোমাদেরকে আনুগত্য করবে, সবাই এক মাসআলার উপর নির্ভর করবে৷ আর ইসলামি রাষ্ট্রে  কোন প্রকার কোন্দল সৃষ্টি হবেনা, আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝার তাহফীক দান করুক, (আমিন)
প্রিয় পাঠক গণ, যদি আমার লেখার মাঝে কোন প্রকার ভুল ক্রুটি ধরা পরে, আর ভুল হওয়া স্বাভাবিক, কারণ আমি মানুষ মানুষেরে ভুল হয়, তাহলে আমাকে অনুগ্রহ পূর্বক ক্ষমা করে দিবেন, এবং সে ভুল গুলো আমাকে জানিয়ে দিবেন, আমি ভুল ক্রুটি গুলো শুধরিয়ে পরবর্তী সংস্কারে প্রকাশ করিবো (ইনশাআল্লাহ)
অথবা আরো আলোচনা বর্ধিত করার প্রয়োজন হলে, অথবা কোন আলোচনা বাদ পরেছে এমন শূন্যতা অনুভব হলে, এবং তা তোমাদের জ্ঞানে ধরা পরলে, আমাকে জানিয়ে নিবেন অথবা পাঠিয়ে দিবেন, আমি পরবর্তী সংস্কারে প্রকাশ করে দিবো (ইনশাআল্লাহ)
উপসংহার
উল্লেখিত আলোচনা থেকে সুষ্পষ্ট প্রমান হলো দ্বীন কায়েম করা, ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, প্রতেকটি মুসলিমদের জন্য ফরজ, তাই এ ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা  করার জন্য  প্রতেকটি মুসলিমদেরকে অনুনয় আহব্বান জানাচ্ছি, এই ইসলামি রাষ্ট্র  প্রতিষ্ঠা করতে গেলে যে সব বাধা বিগ্নতা আসবে,  যে সব বিপদের সম্মুখীন হতে হবে তা আমি উল্লেখ করেছি, এবং সে সব বাধা বিগ্নতা কি ভাবে দুরীভুত করতে হবে সে বিষয়ও  উল্লেখ  করেছি,  মুসলিম জাতিকে সেই মতে চলার জন্য অনুনয় আহব্বান জানাচ্ছি, যাতে করে তারা  ইহুদী খ্রিস্টানদের তৈরিকৃত গণতন্ত্র থেকে বাহির হয়ে কোরআনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারে, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েম প্রতিষ্ঠা করতে পারে, এবং তা প্রতিষ্ঠা করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করার জন্য অনুনয় আহব্বান জানাচ্ছি, কারণ এ দ্বীন প্রতিষ্ঠা  করতে না পারলে, বা এ দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার জন্য সঠিক পদ্ধতিতে সর্বাত্মক চেষ্টা  না চালালে, শেষ বিচারের দিন, কিয়ামাতের দিন, আল্লাহর কাছে অবশ্যই অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে, তার জবাবের হাত থেকে কোন মুসলিমেই রেহাই পাবেনা, অবশ্য আল্লাহ যে সব মুসলিমের কাছ থেকে জবাব নিবেনা সেটা ভিন্ন কথা, তা ছাড়া সকল মুসলিমকে তার দরবারে জবাবদিহি করতে হবে, তাই সকল মুসলিমকে বিশেষ ভাবে অনুনয় আহব্বান জানাচ্ছি, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েম করার জন্য, এই বলে আমার সংক্ষিপ্ত আলোচনা এখানে শেষ করলাম, আল্লাহ  আমাদের সবাই কে সঠিক জ্ঞান দান করুক(আমিন)                                                          আল্লাহ আমাদের সবাই কে সঠিক বুঝ দান করুক (আমিন)
                               সমাপ্ত






  

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ইসলামিক রাষ্ট্র কায়েমের পদ্ধতি গণতন্ত্র

   ইসলামিক রাষ্ট্র  কায়েমের পদ্ধতি (গণতন্ত্র)   একটি ব্যতিক্রম গবেষণা মুখী  প্রবন্ধ৷   লেখক, মোঃ মাসুদার রহমান (মাসুদ) গণতান্ত্রিক ভোট...